বাংলা বানানের নিয়ম

বাংলা বানানের নিয়ম

(একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি)

সাইফুজ্জামান খালেদ

বানানে কী ভুল করি, কেনো ভুল করি?

বানান লিখার সময় আমরা যে ভুলগুলো করি এবং তা করার কারণ নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

  • হয়তো ঐ বিশেষ শব্দটির বানানটি কখনোই মন দিয়ে শেখা হয় নি।
  • বানানের ক্ষেত্রে একেবারেই মনোযোগ না-দেওয়া। মনোভাবটা এরকম যে, আমার মাতৃভাষা আমার যেমন খুশি তেমন লিখব, শুদ্ধ না-হয়ে যাবে কোথায়? স্পষ্টতই, একেবারে মূঢ়তার চূড়ান্ত।
  • বানান সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলেও অভিধান খোলার কষ্ট স্বীকার না করা। বলা প্রয়োজন, অভিধান দেখা অনেকটাই অভ্যাসের ব্যাপার; ছোটবেলা থেকে রপ্ত না-হলে পরবর্তী কালে ভারি ঝক্কি মনে হয়।
  • মুখে যেরকম বলি সেরকম উচ্চারণে বানান লেখা। এ-ধরণের বানানের কিছু নমুনা হচ্ছে – গ্যালো, য্যানো, বোললো, কএকটা ইত্যাদি।
  • কোনো শব্দ ভুল উচ্চারণের অভ্যাস থাকলে লিখতে গিয়ে অশুদ্ধ উচ্চারণের প্রভাবে ভুল বানান লেখা হয়।
  • বানান ভুল করার আরেকটি কারণ হলো শব্দের বংশপরিচয় এবং অর্থ সম্পর্কে ধারণা না থাকা। যেমন, অনেকেই লেখেন ‘জুগিয়েছে’। কিন্তু ঐ শব্দের উৎপত্তি এবং অর্থের সাথে যোগ, যোগান, যোগানো এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এর বানান হবে যুগিয়েছে।
  • বাংলা শব্দের বানান ভুলের আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে একটি ধ্বনির একাধিক রূপ। যেমন : দুটো ‘ন’ ধ্বনি (ন, ণ), স-ধ্বনির তিনটি (শ, ষ, স) রূপ স্বভাবতই অনেকর মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং নিয়মগুলো ভালোভাবে না জানার কারণে তারা বানানে ভুল করে বসে।  

ণত্ব-বিধান

বাংলা শব্দের বানানে  দন্ত্য-ন পরিবর্তিত হয়ে কখন মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়, এই নিয়মের নামই হল ণত্ব বিধান।

১. সাধারণত ‘র’, ‘ষ’, ‘ক্ষ’ – এই তিন অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হবে। (‘র’ অর্থ ১.র ২.ঋ ৩.রেফ্‌ ৪.র-ফলা ৫.ঋ-কার)।

উদাহরণ: প্রাণ, কারণ, ধারণ, ঘৃণা, তৃণ, ষণ্ড, ভূষণ, ক্ষণ ইত্যাদি।

২. ‘র’ অথবা ‘ক্ষ’ এরপর যদি

ক-বর্গের ৫টি (ক খ গ ঘ ঙ)

প-বর্গের ৫টি (প ফ ব ভ ম) এবং য য় হ

এই মোট ১৩টি অক্ষরের যে-কোনো ১টি বা ২টি অক্ষর আসে, তবে তার পরেও মূর্ধন্য-ণ হবে।

উদাহরণ: পরায়ণ, গ্রহণ, কৃপণ, ভ্রাম্যমাণ ইত্যাদি।

৩. ট-বর্গের ট ঠ ড ঢ-এই চারটি বর্ণের পূর্বে যদি ‘ন্‌’ ধ্বনি থাকে এবং ঐ ‘ন্‌’ সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয়, তা হলে সর্বদা মূর্ধন্য-ণ হবে। যেমন: কণ্টক, ঘণ্টা, ঠাণ্ডা, দণ্ড, লণ্ঠন ইত্যাদি।

৪. ত-বর্গের ত থ দ ধ-এই চারটি বর্ণের পূর্বে যদি ‘ন্‌’ ধ্বনি থাকে এবং ঐ ‘ন্‌’ সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয়, তা হলে সর্বদা দন্ত্য-ন হবে। যেমন: অন্ত, ছন্দ, বন্দি, গন্ধ ইত্যাদি।

৫. এই ণত্ব-বিধান বিদেশী শব্দ বা বিদেশী নামের বানানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় । যেমন: গ্রিন (গ্রিণ নয়)।

৬. সমাসবদ্ধ দুই পদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকায় নিম্নের শব্দগুলোর ক্ষেত্রে ‘মূর্ধন্য-ণ’র পরিবর্তে ‘দন্ত্য-ন’ ব্যবহৃত হবে।

যেমন: ত্রিনয়ন, দুর্নীতি, সর্বনাম ইত্যাদি।

৭. খাঁটি বাংলা শব্দে ও অ-তৎসম শব্দে (অর্থাৎ তদ্ভব শব্দে) সর্বদা দন্ত্য-ন হবে। যেমন: ঝরনা, রানী, পুরান ইত্যাদি।

ষত্ব-বিধান

বাংলা শব্দের বানানে  দন্ত্য-স পরিবর্তিত হয়ে কখন মূর্ধন্য-ষ হয়ে যায়, এই নিয়মের নামই হল ষত্ব বিধান।

১.  অ আ এবং অ-কার ছাড়া অন্যান্য স্বরবর্ণের পরে বহু ক্ষেত্রে ষ হয়ে থাকে।

অর্থাৎ ই, ঈ উ ঊ এ ঐ ও ঔ এবং হ্রস্ব- ই,  দীর্ঘ-ঈ, হ্রস্ব-উ, দীর্ঘ-ঊ, এ-কার, ঐ-কার, ও-কার, ঔ-কার –এদের পরে ষ হয়:


ইষণ ইষু বিষয় ভবিষ্যৎ ঈষ ইষৎ ভীষণ জিগীষা উষ্ণ সুষম তুষার মঞ্জুষা উষর ঊষা ভূষণ দূষণ এষণ এষা দ্বেষ বিশেষ ঐষিক বৈষ্ণব ওষধি ওষুধ পোষণ কোষাধ্যক্ষ ঔষধ পৌষ কৌষেয়

২.  সন্ধির ক্ষেত্রে প্রথম পদে ‘হ্রস্ব-ই + বিসর্গ’ বা ‘হ্রস্ব-উ + বিসর্গ’ থাকলে এবং দ্বিতীয় পদের শুরুতে ক খ প ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গের জায়গায় সর্বদা মূর্ধন্য-ষ বসবে। যথা:

আবিঃ+কার = আবিষ্কার নিঃ+পত্র = নিষ্পত্র আয়ু + কাল = আয়ুষ্কাল পরিঃ+কার = পরিষ্কার নিঃ + প্রদীপ = নিষ্প্রদীপ দুঃ + কর = দুষ্কর নিঃ+ক্রিয় = নিষ্ক্রিয় নিঃ + ফল = নিষ্ফল চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ

৩.  রেফ্‌ বা ঋ-কারের পরে সর্বদা মূর্ধন্য-ষ হবে। যথা: কর্ষণ, বর্ষা, মহর্ষি, ঋষি, বৃষ, তৃষা, তৃষ্ণা।

৪.  ট ঠ-এই দুটি বর্ণের  পূর্বে সর্বদা মূর্ধন্য-ষ হবে। অর্থাৎ, যুক্তাক্ষরের রূপ হবে ষ্ট/ষ্ঠ। যথা: অনিষ্ট, ওষ্ঠ, নষ্ট, বলিষ্ঠ।

৫.  বাংলা ভাষায় দেশি-বিদেশী শব্দ মিলে ৫০টিরও বেশি উপসর্গ আছে। এ-সব উপসর্গের মধ্যে ই-কারন্ত (অর্থাৎ হ্রস্ব-ই দিয়ে শেষ হচ্ছে যেগুলো – অধি অভি প্রতি পরি ইত্যাদি) এবং উ-কারন্ত (যেমন – অনু সু ইত্যাদি) উপসর্গের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যথা:

অভিষেক (অভি+সেক) প্রতিষ্ঠান (প্রতি+স্থান) অনুষঙ্গ =(অনু+সঙ্গ) অনুষ্ঠান (অনু + স্থান) সুষম (সু+সম)

৬.  বিদেশী শব্দে কখনোই ‘মূর্ধন্য-ষ’ হবে না। যথা: মজলিস, স্যার, মেশিন, চশমা, সিলেবাস ইত্যাদি।

তৎসম শব্দের বানানের কিছু নিয়ম

১. যেসব তৎসম শব্দে ‘হ্রস্ব ই-কার’, ‘দীর্ঘ ঈ-কার’ বা ‘হ্রস্ব উ-কার’, ‘দীর্ঘ ঊ-কার’ উভয় শুদ্ধ, সেসব শব্দে শুধুমাত্র ‘হ্রস্ব ই-কার’ এবং’ হ্রস্ব উ-কার’ হবে । যেমন : কিংবদন্তি, খঞ্জনি, চিৎকার, চুল্লি, তরণি, ধমনি, নাড়ি, পঞ্জি, পদবি, পল্লি, ভঙ্গি, মঞ্জরি, মসি, যুবতি,রচনাবলি, লহরি, শ্রেণি, সরণি, সূচিপত্র,উর্ণা, ঊষা ।

২. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না । যেমন : অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ্ব, কর্ম্ম, কার্ত্তিক, কার্য্য, বার্দ্ধক্য, মূর্চ্ছা,সূর্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন,ঊর্ধ্ব, কর্ম, কার্তিক, কার্য, বার্ধক্য, মূৰ্ছা, সূর্য ইত্যাদি হবে।

৩. তৎসম শব্দ নারীবাচক হলে শেষে ‘দীর্ঘ ই-কার’ হবে।  যেমন: কল্যানী, সুন্দরী, মানবী, তরুণী।

৪. সন্ধির ক্ষেত্রে প্রথম পদে ‘ম্‌’ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে অন্তঃস্থিত  ‘ম্‌’-এর স্থানে  অনুস্বার (ং) হবে ।

যেমন : – অহম্ + কার = অহংকার। এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

সন্ধিবদ্ধ না হলে ঙ স্থানে (ং) হবে না।

যেমন : অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী ।

 ৫. শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকবে না ।

যেমন : ইতস্তত, কার্যত, ক্রমশ, পুনঃপুন, প্রথমত, প্রধানত, প্রয়াত, প্রায়শ, ফলত, বস্তুত, মূলত ।

এছাড়া নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে শব্দমধ্যস্থ বিসর্গ-বর্জিত রূপ গৃহীত হবে । যেমন : দুস্থ, নিস্তব্ধ, নিস্পৃহ, নিশ্বাস ।

এছাড়া নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে শব্দমধ্যস্থ বিসর্গ-বর্জিত রূপ গৃহীত হবে । যেমন : দুস্থ, নিস্তব্ধ, নিস্পৃহ, নিশ্বাস ।

. তৎসম শব্দের শেষে যদি ‘ৎ’ থাকে, তবে তা বহাল থাকবে। যেমন: বিদ্যুৎ, জগৎ, হঠাৎ।

শেষে ‘ৎ’ আছে এমন শব্দের সঙ্গে ‘এ’ বা ‘এর’ বিভক্তি যোগ করা হলে ‘ৎ’ লোপ পাবে, বদলে ‘ত’ বসবে।

যেমন: ভবিষ্যৎ+এ à ভবিষ্যতে, ভবিষ্যৎ+এর à ভবিষ্যতের।

অ-তৎসম শব্দ বানানের কিছু নিয়ম

 . সকল অ-তৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন (ি) ও (ু) ব্যবহৃত হবে।

যেমন: আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইমান, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়াল, গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি, জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, দিদি, নানি, নিচু, পশমি, পাখি, পাগলামি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইনি, বেশি, বোমাবাজি, ভারি(অত্যন্ত অর্থে),মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি, সোনারি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।

. পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে। যেমন :

ছেলেটি, বইটি, লোকটি।

. সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন:

এটা কী বই? কী আনন্দ ! কী আর বলব? কী করছ ? কী করে যাব? কী খেলে? কী জানি? কী দুরাশা! তোমার কী ! কী বুদ্ধি নিয়ে এসেছিলে! কী পড়ো? কী যে করি!কী বাংলা কী ইংরেজি উভয় ভাষায় তিনি পারদর্শী ।

.কীভাবে, কীরকম, কীরূপে প্রভৃতি শব্দেও ‘দীর্ঘ ঈ-কার’ হবে । যেসব প্রশ্নবাচক বাক্যের উত্তর হ্যাঁ বা না হবে, সেইসব বাক্যে ব্যবহৃত কি ‘হ্রস্ব ই-কার’ দিয়ে লেখা হবে । যেমন :

তুমি কি যাবে? সে কি এসেছিল?

. শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে । যেমন :

গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং ।

তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে । যেমন : বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের ।

বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে ।

. হস-চিহ্ন যথাসম্ভব বর্জন করা হবে ।

যেমন : কলকল, করলেন, কাত, চট, জজ, ঝরঝর, টক, টন, টাক, ডিশ, তছনছ, ফটফট, বললেন, শখ, হুক ।

তবে যদি অর্থবিভ্রান্তি বা ভুল উচ্চারণের আশঙ্কা থাকে তাহলে হস-চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে । যেমন : উহ, বাহ, যাহ।

. ঊর্ধ্বকমা যথাসম্ভব বর্জন করা হবে । যেমন: বলে (বলিয়া), হয়ে, দুজন, চাল (চাউল), আল (আইল) ।

হ্রস্ব-ই কার ও দীর্ঘ-ঈ কার  ব্যবহারের কিছু নিয়ম

১. বিশেষ্য শব্দের শেষ ‘দীর্ঘ-ঈ’ যোগ করলে বিশেষণ তৈরি হয়।

যেমন : উৎসাহ > উৎসাহী, ঋণ > ঋণী, লোভ > লোভী, ত্যাগ > ত্যাগী, গৃহ > গৃহী, ধন > ধনী, পাপ > পাপী ইত্যাদি।

২. কোনো শব্দের শেষে যদি ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার থাকে এবং তার পরে যদি ত্ব /তা/ণী/নী /সভা/পরিষদ/ভাব/ভাবে/তত্ত্ব /বিদ্যা/জগৎ/বাচক ইত্যাদি যুক্ত হয় তবে ঐ শব্দের শেষের ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার ‘হ্রস্ব-ই’ কার হয়ে যাবে।

যেমন : অধিকারী>অধিকারিত্ব, একাকী>একাকিত্ব, প্রাণী>প্রাণিজগৎ, মন্ত্রী>মন্ত্রিপরিষদ, অধিকারী>অধিকারিণী ইত্যাদি।

৩. স্ত্রীলিঙ্গ-বাচক শব্দের শেষে ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার হবে।  যেমন : গাভী, দাসী, রানী, মানবী, যুবতী, নেত্রী ইত্যাদি।

৪. সন্ধির একটি নিয়ম আছে: হ্রস্ব-ই’ কার + ই = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার, হ্রস্ব-ই’ কার + ঈ = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার, দীর্ঘ-ঈ’ কার + ই = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার, দীর্ঘ-ঈ’ কার + ঈ = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার; কোনো শব্দ যদি সন্ধি করার ফলে তৈরি হয়, তবে সে-সব ক্ষেত্রে ঐ নিয়মগুলো প্রয়োগ করলেই বানান নির্ভূল হবে। যেমন :

রবি+ইন্দ্র = রবীন্দ্র পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা ভর্তি+ইচ্ছু = ভর্তীচ্ছু বারি+ইন্দ্র = বারীন্দ্র অধি+ঈশ্বর =অধীশ্বর সুধী+ইন্দ্র =সুধীন্দ্র

শব্দের শেষে -ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে বানানের নিয়ম

শব্দের শেষে ‘-ইক’ প্রত্যয় যুক্ত হলে বানানে কিছু পরিবর্তন আসে।

১. শব্দের প্রথমে ‘অ-কার’ থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘আ-কার’ হবে।

যেমন : অঙ্গ>আঙ্গিক, পরলোক>পারলৌকিক, জগৎ>জাগতিক, গণিত>গাণিতিক, অভিধান>আভিধানিক ইত্যাদি।

২. শব্দের প্রথমে ‘ই-কার’; ‘ঈ-কার’ এবং ‘এ-কার’ থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘ঐ-কার’ হবে।

যেমন : ইচ্ছা>ঐচ্ছিক, পিচাশ>পৈশাচিক, নীতি>নৈতিক, এক>ঐকিক, দেহ>দৈহিক, হেমন্ত>হৈমন্তিক ইত্যাদি।

৩. শব্দের প্রথমে ‘উ-কার’; ‘ঊ-কার’ এবং ‘ও-কার’ থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘ঔ-কার’ হবে।

যেমন : উপন্যাস>ঔপন্যাসিক, মুখ>মৌখিক, ভূগোল>ভৌগোলিক, কোণ>কৌণিক, লোক>লৌকিক ইত্যাদি।

2 thoughts on “বাংলা বানানের নিয়ম”

Leave a reply to মুহিউল ইসলাম Cancel reply

Design a site like this with WordPress.com
Get started