তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি [অধ্যায় ৩] সংখ্যা পদ্ধতি

দশমিক সংখ্যাকে বাইনারি সংখ্যায় রূপান্তর করতে গেলে প্রথম দেখতে হবে সংখ্যাটি কি পূর্ণ সংখ্যা (integer Number), নাকি ভগ্নাংশ (Float Number), নাকি মিশ্র সংখ্যা (Mixed Number)। যদি পূর্ণ সংখ্যা হয় তবে Type 1 : A –এতে বর্ণিত উপায়ে দশমিক সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করতে হবে। আর যদি ভগ্নাংশ হয়ে তবে Type 1 : B অনুসরণ করতে হবে। আর যদি মিশ্র সংখ্যা হয় সে ক্ষেত্রে আমরা Type 1 : C –তে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করে দশমিক সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করতে পারি।

সংখ্যা পদ্ধতি (Number System)

সাইফুজ্জামান খালেদ

কোনো কিছু গণনা করার জন্য কতিপয় সাংকেতিক চিহ্ণ ব্যবহার করে সংখ্যা লেখা বা প্রকাশ করার পদ্ধতিই সংখ্যা পদ্ধতি।

অঙ্ক (Digit)

কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে সংখ্যাগুলো লেখা বা প্রকাশ করার জন্য যে সাংকেতিক চিহ্ণ বা প্রতীক ব্যবহার করা হয় সে প্রতীকগুলোকে বলা হয় অঙ্ক। অর্থাৎ সংখ্যা তৈরির ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে অঙ্ক।

সংখ্যা (Number)

এক বা একাধিক অঙ্ক পাশাপাশি বসে সংখ্যা তৈরি করে। সংখ্যা এক অঙ্কের হতে পারে, আবার একাধিক অঙ্কেরও হতে পারে। যেমন ৭৮ একটি সংখ্যা। এটিতে ৭ ও ৮ এ দুটি অঙ্ক আছে।

ভিত্তি (Base)

কোনো সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বলতে ঐ সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট অঙ্ক বা প্রতীকসমূহের সংখ্যাকে বুঝায়।

সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর

Type 1: দশমিক সংখ্যাকে বাইনারি সংখ্যায় রূপান্তর

দশমিক সংখ্যাকে বাইনারি সংখ্যায় রূপান্তর করতে গেলে প্রথম দেখতে হবে সংখ্যাটি কি পূর্ণ সংখ্যা (integer Number), নাকি ভগ্নাংশ (Float Number), নাকি মিশ্র সংখ্যা (Mixed Number)। যদি পূর্ণ সংখ্যা হয় তবে Type 1 : A –এতে বর্ণিত উপায়ে দশমিক সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করতে হবে। আর যদি ভগ্নাংশ হয়ে তবে Type 1 : B অনুসরণ করতে হবে। আর যদি মিশ্র সংখ্যা হয় সে ক্ষেত্রে আমরা Type 1 : C –তে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করে দশমিক সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করতে পারি।

Type 1 : A (দশমিক পূর্ণ সংখ্যাকে অন্য সংখ্যা পদ্ধতিতে রূপান্তর)

  1. প্রথমে Decimal পূর্ণ সংখ্যাটি নিতে হবে।
  2. যে সংখ্যা পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে হবে তার ভিত্তি বা Base (যেমন বাইনারি হলে 2, অক্টাল হলে 8,  হেক্সাডেসিমেল হলে 16) দিয়ে সংখ্যাটিকে ভাগ করতে হবে।
  3. ভাগশেষটিকে আলাদা করে নিয়ে ভাগফলকে আবার ভিত্তি দিয়ে ভাগ করতে হবে। এভাবে যতক্ষণ না পর্যন্ত ভাগফল ০ (শূন্য) না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।
  4. শূন্য হয়ে গেলে ভাগশেষগুলো নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে শেষ ভাগশেষটি প্রথমে (MSB) এবং প্রথম ভাগশেষটি একদম শেষে (LSB)  হবে।

Type 1 : B (দশমিক ভগ্নাংশকে অন্য সংখ্যা পদ্ধতিতে রূপান্তর)

  1. প্রথমে Decimal ভগ্নাংশটি নিতে হবে।
  2. যে সংখ্যা পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে হবে তার ভিত্তি বা Base দিয়ে সংখ্যাটিকে গুণ করতে হবে।
  3. গুণ করে প্রাপ্ত গুণফলের পূর্ণাংশটিকে (Radix Point-এর বাম পাশের অঙ্কগুলো) সংরক্ষণ করতে হবে। যদি পূর্ণাংশ না থাকে তবে ০ (শূন্য) সংরক্ষণ করতে হবে।
  4. এরপর প্রাপ্ত গুণফলের শুধুমাত্র ভগ্নাংশটিকে (Radix Point-এর ডান পাশের অঙ্কগুলো) কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা পদ্ধতির বেস দিয়ে গুণ করতে হবে এবং প্রাপ্ত গুণফলের পূর্ণাংশটিকে সংরক্ষণ করতে হবে।
  5. এভাবে প্রাপ্ত ভগ্নাংশের পুনঃপুন গুণ চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সম্পূর্ণ ভগ্নাংশটি ০ (শূন্য)-তে পরিণত না হয়।
  6. শূন্য হয়ে গেলে সংরক্ষিত পূর্ণাংশগুলো শূন্য বসিয়ে এবং এর পর Radix Point বসিয়ে একটি পর একটি বসিয়ে দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে সংরক্ষিত প্রথম পূর্ণাংশটি প্রথমে (MSB) এবং শেষ সংরক্ষিত পূর্ণাংশটি একদম শেষে (LSB)  হবে। ­­

­ Type 1 : C (মিশ্র দশমিক ভগ্নাংশকে অন্য সংখ্যা পদ্ধতিতে রূপান্তর)

  1. প্রথমে মিশ্র Decimal সংখাটির পূর্ণাংশ এবং ভগ্নাংশকে আলাদা করে নিতে হবে।
  2. পূর্ণাংশকে Type 1:A এবং ভগ্নাংশকে Type 1:B তে  বর্ণিত নিয়মে বাইনারি সংখ্যায় আলাদা আলাদভাবে রূপান্তর করে নিতে হবে।
  3. এর পর প্রাপ্ত মানগুলো পাশাপাশি বসিয়ে দিলেই আমরা প্রদত্ত মিশ্র দশমিক সংখ্যাটির সমতুল্য বাইনারি মান পেয়ে যাব।

Type 2: (অন্য সংখ্যা-পদ্ধতি হতে দশমিকসংখ্যা-পদ্ধতিতে রূপান্তর)

  1. প্রথমে প্রদত্ত সংখ্যাটির অঙ্কগুলোর স্থানীয় মান বের করে নিতে হবে।  স্থানীয় মান বের করার জন্য পূর্ণাংশের ক্ষেত্রে (Radix Point-এর বাম পাশের অঙ্ক) স্থানীয় মান ০ (শূন্য) থেকে শুরু হবে এবং ডান দিক থেকে বামে (LSB থেকে শুরু করে MSB পর্যন্ত) এক এক করে বাড়বে। ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে স্থানীয় মান -1 থেকে শুরু হয়ে বাম দিক থেকে ডান দিকে (MSB থেকে শুরু করে LSB পর্যন্ত) এক এক করে কমবে ।
  2. এবার সংখ্যাটির অঙ্কগুলোকে যে সংখ্যা-পদ্ধতিতে আছে তার ভিত্তি বা Base (যেমন বাইনারি হলে 2, অক্টাল হলে 8, হেক্সাডেসিমেল হলে 16)দিয়ে গুণ করতে হবে। গুণ করার সময় আগের ধাপে নির্ণয় করা অঙ্কগুলোর স্থানীয় মানগুলোকে ভিত্তির ঘাত বা শক্তি (power) হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।
  3. তারপর গুণফলগুলোর যোগফল নির্ণয় করতে হবে এবং সেই যোগফলই হবে প্রদত্ত সংখ্যাটির সমতুল্য ডেসিম্যাল বা দশমিক মান।

Type 3: (বাইনারি হতে অক্টাল/হেক্সা-ডেসিম্যালেরূপান্তর)

  1. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি হতে অক্টাল বা হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতিতে নিতে হলে প্রথমে সংখ্যাটির পূর্ণাংশ এবং ভগ্নাংশের অঙ্কগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে গ্রুপে ভাগ করে নিতে হবে। অক্টালে রূপান্ত করার জন্য ৩ অঙ্কের গ্রুপ এবং হেক্সাডেসিম্যালে রূপান্তরের জন্য ৪ অঙ্কের গ্রুপে ভাগ করতে হবে। পূর্ণাংশের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে বাম দিকে (LSB থেকে শুরু করে MSB পর্যন্ত) এবং ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে বাম দিক থেকে ডান দিকে (MSB থেকে শুরু করে LSB পর্যন্ত) ৩ বা ৪ অঙ্কের গ্রুপে বিভক্ত করে নিতে হবে। কোনো গ্রুপের ক্ষেত্রে অঙ্ক কম পড়লে (অর্থাৎ অক্টালের ক্ষেত্রে ৩ এবং হেক্সাডেসিম্যালের ক্ষেত্রে ৪ অঙ্ক) পূর্ণাংশের ক্ষেত্রে বামে এবং ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে ডানে প্রয়োজন মতো শূন্য বসিয়ে গ্রুপ সম্পূর্ণ করতে হবে।
  2. এবার প্রতিটি গ্রুপকে আলাদা আলাদাভাবে অক্টাল বা হেক্সাডেসিম্যাল অঙ্কে রূপান্তর করে নিয়ে পাশাপাশি বসিয়ে দিলে প্রদত্ত বাইনারি সংখাটির সমতুল্যা অক্টাল বা হেক্সাডেসিম্যাল মান পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণাংশ ও ভগ্নাংশের মাঝখানে আগের মতোই Radix Point বসাতে হবে।

Type 4: (অক্টাল/হেক্সা-ডেসিম্যাল হতে বাইনারিতে রূপান্তর)

  1. প্রদত্ত সংখ্যাটির অঙ্কগুলোকে অক্টালের ক্ষেত্রে ৩ বিট সমতুল্য  এবং হেক্সাডেসিম্যালের ক্ষেত্রে ৪ বিট সমতুল্য বাইনারিতে রূপান্তর করে নিতে হবে।
  2. এরপর বাইনারি মানগুলো পাশাপাশি বসিয়ে দিলে প্রদত্ত অক্টাল/হেক্সাডেসিম্যাল সংখ্যার সমতুল্য বাইনারি মান পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে আগের মতোই পূর্ণাংশ ও ভগ্নাংশের মাঝখানে Radix Point বসাতে হবে। পূর্ণাংশের একেবারে বামদিকের এবং ভগ্নাংশের একেবারে ডানদিকের শূন্যগুলো ইচ্ছে করলে বাদ  দেওয়া যেতে পারে।

Type 5: (অক্টাল ও হেক্সা-ডেসিম্যাল সংখ্যা-পদ্ধতির মধ্যে পারস্পরিক রূপান্তর)

  1. Type 4-এ বর্ণিত প্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রদত্ত অক্টাল/হেক্সা-ডেসিম্যাল সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করে নিতে হবে।
  2. এরপর প্রাপ্ত বাইনারি সংখ্যাটিকে Type 3-এ বর্ণিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন মতো অক্টাল বা হেক্সা-ডেসিম্যালে রূপান্তর করে নিতে হবে।

1’s Complement (১-এর পরিপূরক পদ্ধতি)

১-এর পরিপূরক বের করার নিয়ম:

  1. যে ঋণাত্মক সংখ্যাটির ১-এর পরিপূরক বের করতে হবে সে সংখ্যাটির ধনাত্মক সমতূল্য বাইনারি সংখ্যা বের করতে হবে।
  2. এবার প্রাপ্ত বাইনারি সংখ্যাটির প্রতিটি অঙ্ক বা Bit কে উল্টিয়ে দিলে (অর্থাৎ ১ থাকলে ০ হবে, ০ থাকে ১ হবে)  আমরা সংখ্যাটির কাঙ্ক্ষিত ১-এর পরিপূরক পেয়ে যাব।

মনে করি আমরা ১-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে -5 এর মান বের করবো। তাহলে আমাদের প্রথম ধাপ হচ্ছে +5 এর সমতুল্য বাইনারি সংখ্যাটি বের করা। আমরা জানি +5 এর বাইনারি সমতুল্য মান হচ্ছে 101. আমরা এই কাজে সাধারণত 8-বিট রেজিস্টার ব্যবহার করি। তাই সংখ্যাটির ডানে 5টি 0 (শূন্য) বসিয়ে একেও 8 বিটে উন্নীত করতে হবে। তাহলে সংখ্যাটি দাঁড়ায় 00000101। এবার প্রাপ্ত সংখ্যাটির প্রতিটি বিটকে উল্টিয়ে দিলে আমরা ১-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে 5 এর কপ্লিমেন্ট অর্থাৎ -5 এর মান পেয়ে যাব।

2’s Complement (২-এর পরিপূরক পদ্ধতি)

সংখ্যাটির অঙ্কগুলোকে অক্টালের

  1. যে ঋণাত্মক সংখ্যাটির ২-এর পরিপূরক বের করতে হবে সে সংখ্যাটির ধনাত্মক সমতূল্য বাইনারি সংখ্যা বের করতে হবে।
  2. এবার প্রাপ্ত বাইনারি সংখ্যাটির প্রতিটি অঙ্ক বা Bit কে উল্টিয়ে দিলে (অর্থাৎ ১ থাকলে ০ হবে, ০ থাকে ১ হবে)  আমরা সংখ্যাটির কাঙ্ক্ষিত ১-এর পরিপূরক পেয়ে যাব।
  3. এরপর প্রাপ্ত ১-এর পরিপূরক এর সাথে ১ যোগ করলে প্রদত্ত সংখ্যাটির কাঙ্ক্ষিত ২-এর পরিপূরক পেয়ে যাব।

মনে করি আমরা ২-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে -5 এর মান বের করবো। তাহলে আমাদের প্রথম ধাপ হচ্ছে পূর্বের উদাহরণে বর্ণিত উপায়ে +5 এর 1’s Complement বের করা। এর পর উক্ত মানের সাথে 1 যোগ করলে যে নতুন বাইনারি সংখ্যাটি পাবো তাই হচ্ছে ২-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে 5 এর কপ্লিমেন্ট বা -5 এর মান।

পরিপূরক পদ্ধতিতে যোগ-বিয়োগ

পরিপূরক পদ্ধতিতে যোগ বিয়োগ করার সময় ধনাত্মক সংখ্যার প্রকৃত মান ব্যবহার করা হয়, কিন্তু ঋণাত্মক সংখ্যার পরিপূরক মান ব্যবহার করা হয়। এর পর সংখ্যা দুটোকে যোগ করা হয়।

মনে রাখা দরকার যে পরিপূরক পদ্ধতিতে বিয়োগ করার প্রয়োজন হয় না কারণ গাণিতিক রাশি বা বাক্যটিকে সবসময় এমনভাবে প্রকাশ করে নিতে হয় যেন মাঝখানের Operator টি অবশ্যই যোগ হয়। এরপর যদি কোনো Operand-এর মান ঋণাত্মক হয় তবে সে সংখ্যাটির পরিপূরক মান ব্যবহার করতে হবে।

যেমন বলা হল +7 থেকে +5 বিয়োগ কর। তাহলে গাণিতিক এক্সপ্রেশনটি হবে:

7 – 5

এখানে মাঝখানের Operator টি হচ্ছে – (বিয়োগ)। কিন্তু এটাকে আমরা যদি এভাবে লিখি তাহলে মাঝখানের Operator টি (+) যোগ হয়ে যায়।  

(+7) + (-5)

এখন -5 এর পরিপূরক মান ব্যবহার করে সংখ্যা দুটোকে যোগ করে নিতে হবে।

প্রদত্ত যোগ / বিয়োগ স্বাভাবিক গাণিতিক রাশি সাজিয়ে লেখার পর গাণিতিক রাশি
+5 এর সাথে +6 বিয়োগ কর 5 – 6 5 + (-6)
+8 থেকে -6 বিয়োগ কর 8 – (-6) 8 + 6
-5 এর সাথে +6 যোগ কর (-5) + 6 (-5) + 6
-5 থেকে -6 বিয়োগ কর (-5) – (-6) (-5) + 6

সাজিয়ে লেখার পর বাইনারির স্বাভাবিক নিয়মে আমরা খুব সহজে যোগ করতে পারি। শুধুমাত্র ঋণাত্মক সংখ্যার ক্ষেত্রে এর প্রকৃত মান ব্যবহার না করে পরিপূরক মান ব্যবহার করতে হবে।

১-এর পরিপূরক এবং ২-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে যোগ করার নিয়ম প্রায় একই। ১-এর পরিপূরক পদ্ধতি ঋণাত্মক সংখ্যার ১-এর পরিপূরক মান এবং ২-এর পরিপূরক পদ্ধতি ঋণাত্মক সংখ্যার ২-এর পরিপূরক মান ব্যবহার করা হয়। শুধুমাত্র পার্থক্যটি হয় যখন চূড়ান্ত যোগফলে carry হয়। তখন 8-bit রেজিস্টারের ক্ষেত্রে যোগফল হয় 9 বিটের।  এই অতিরিক্ত ক্যারি বিটকে বলা হয় Carry Bit বা Overflow Bit. ১-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে Carry Bit-কে বাকি 8 বিটের সাথে আবার যোগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ২-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে Carry Bit-কে যোগ করতে হয় না।

Note: শুধুমাত্র ঋণাত্মক সংখ্যার পরিপূরক মান বের করতে হয়। ধনাত্মক সংখ্যার পরিপূরক মান বের করতে হয় না।

পরিপূরক পদ্ধতিতে যোগ-বিয়োগ করার নিয়ম:

  1. প্রথমে গাণিতিক রাশিটি নিতে হবে।
  2. প্রদত্ত গাণিতিক রাশিটিকে প্রয়োজনাসুরে সাজিয়ে লিখতে হবে।  
  3. এবার স্বাভাবিক বাইনারির নিয়মে যোগ করতে হবে।

ধনাত্মক সংখ্যার ক্ষেত্রে প্রকৃত মান এবং ঋণাত্মক সংখ্যার ক্ষেত্রে পরিপূরক মান ব্যবহার করতে হবে।

  • যোগফলে যদি 9 বিটের হয় তবে ১-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে Overflow Bit-কে বাকি 8 বিটের সাথে আবার যোগ করে দিতে হবে। কিন্তু ২-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে Overflow Bit-কে যোগ করতে হবে না;  Overflow Bit-কে বাদ দিয়ে বাকি 8 বিটই হবে ফলাফল।

উদাহরণ:  পরিপূরক পদ্ধতি +7 এর সাথে +5 যোগ কর। 

তার মানে গাণিতিক রাশিটি হচ্ছে –

7 – 5

আমাদের প্রথম কাজটি হবে গাণিতিক রাশিটিকে সাজিয়ে লেখা। সাজিয়ে লিখলে গাণিতিক রাশিটি দাঁড়ায়

(-5) + (+7)

Note: সাজিয়ে লেখার সময় ঋণাত্মক সংখ্যাটিকে আগে লিখলে যোগ করতে সুবিধে হবে।

সৃজনশীল নমুনা প্রশ্ন

০১. প্রথম দিকে কিছু অসুবিধা হলেও বর্তমানে আইসিটি ক্লাস ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুব উপভোগ্য। শ্রেণি শিক্ষক মিজান ও সুমনকে তাদের বয়স বোর্ডে লিখতে বললে তার লিখল (25)8  ও (10100)2। শিক্ষকও মজা করে বললেন, আমার বয়স তোমাদের দুই জনের বয়সের যোগফল অপেক্ষা (11)10 বছর বেশি। 

ক. সংখ্যা পদ্ধতি কী?

খ. পৃথিবীর সকল ভাষাকে কোন কোডের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব – ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের মিজান ও সুমনের বয়সের যোগফল দশমিক পদ্ধতিতে নির্ণয় কর।

ঘ. তোমার বাবার বয়স পঞ্চাশ বছর হলে, তোমার বাবা ও উদ্দীপকের শিক্ষক, কে বয়সে বড় – বিশ্লেষণ করে দেখাও।

০২. মামুন ও পান্না সংখ্যা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলছে। মামুন বলছে কম্পিউটার আসলে একটি যন্ত্র যেটি দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি চেনে না। সে শুধু চেনে বাইনারি  সংখ্যা আর বাইনারি সংখ্যার ডিজিট হলে ০ এবং ১। পান্না বলল এ দুটি প্রতীক দিয়ে কি যে কোনো সংখ্যা লেখা যায়? তাহলে 405 কে বাইনারিতে কীভাবে লেখা যাবে।

ক. সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বলতে কী বুঝ?

খ. বিভিন্ন প্রকার সংখ্যা পদ্ধতি উল্লেখ কর।

গ. পান্নার বলা সংখ্যাটিকে বাইনারিতে প্রকাশ কর।

ঘ. কম্পিউটার ডিজাইনে উদ্দীপকে বর্ণিত সংখ্যা পদ্ধতিটি ব্যবহার করার কারণ বিশ্লেষণ কর।

০৩. সাদীয়া (১২৩.৪) টাকায় (৩২)১০ টি লিচু ক্রয় করল। তার মধ্যে (১৪)১০ টি লিচু জেরিন খেয়ে ফেলল।

ক. ঋণাত্মক সংখ্যার প্রচলন শুরু হয় কবে?

খ. বিসিডি ও বাইনারি কোড এক নয় – ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের লিচুর ক্রয়মূল্যকে দশমিকে প্রকাশ কর।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ২-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে অবশিষ্ট লিচুর সংখ্যা নির্ণয় কর।  

০৪. আধুনিক কম্পিউটারের গাণিতিক বর্তনিতে ২-এর পরিপূরক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ২-এর পরিপূরক গঠনে ঋণাত্মক সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য প্রথম চিহ্ণ বিট ১ হবে বলে রহিম করিমকে জানালো। তখন করিম বলল তাহলে কি ধনাত্মক সংখ্যা প্রকাশ করার প্রথমে চিহ্ণ ০ হবে?

ক. ১ এর পরিপূরক কত?

খ. বাইনারি পদ্ধতিতে চিহ্ণ বোঝানোর জন্য কী ব্যবহার করা হয়? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের আলোকে উপরোক্ত পরিপূরক পদ্ধতিতে  (25)10 ও (13)10  যোগ কর।

ঘ. উদ্দীপকের পরিপূরক গঠনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

০৫.   (425)10      (425)8  

ক. র‍্যাডিক্স পয়েন্ট কী?

খ. দশমিক ও অক্ট্যাল সংখ্যা পদ্ধতির মধ্যে প্রধান পার্থক্য বুঝিয়ে লেখ।  

গ. প্রথম সংখ্যাটিকে অক্ট্যালে রূপান্তর কর।  

ঘ. দ্বিতীয় সংখ্যাটিকে দশমিকে রূপান্তর করে প্রথম সংখ্যার সাথে যোগ করে যোগফলকে বাইনারিতে প্রকাশ কর।  

বাংলা বানানের নিয়ম

বাংলা বানানের নিয়ম

(একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি)

সাইফুজ্জামান খালেদ

বানানে কী ভুল করি, কেনো ভুল করি?

বানান লিখার সময় আমরা যে ভুলগুলো করি এবং তা করার কারণ নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

  • হয়তো ঐ বিশেষ শব্দটির বানানটি কখনোই মন দিয়ে শেখা হয় নি।
  • বানানের ক্ষেত্রে একেবারেই মনোযোগ না-দেওয়া। মনোভাবটা এরকম যে, আমার মাতৃভাষা আমার যেমন খুশি তেমন লিখব, শুদ্ধ না-হয়ে যাবে কোথায়? স্পষ্টতই, একেবারে মূঢ়তার চূড়ান্ত।
  • বানান সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলেও অভিধান খোলার কষ্ট স্বীকার না করা। বলা প্রয়োজন, অভিধান দেখা অনেকটাই অভ্যাসের ব্যাপার; ছোটবেলা থেকে রপ্ত না-হলে পরবর্তী কালে ভারি ঝক্কি মনে হয়।
  • মুখে যেরকম বলি সেরকম উচ্চারণে বানান লেখা। এ-ধরণের বানানের কিছু নমুনা হচ্ছে – গ্যালো, য্যানো, বোললো, কএকটা ইত্যাদি।
  • কোনো শব্দ ভুল উচ্চারণের অভ্যাস থাকলে লিখতে গিয়ে অশুদ্ধ উচ্চারণের প্রভাবে ভুল বানান লেখা হয়।
  • বানান ভুল করার আরেকটি কারণ হলো শব্দের বংশপরিচয় এবং অর্থ সম্পর্কে ধারণা না থাকা। যেমন, অনেকেই লেখেন ‘জুগিয়েছে’। কিন্তু ঐ শব্দের উৎপত্তি এবং অর্থের সাথে যোগ, যোগান, যোগানো এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এর বানান হবে যুগিয়েছে।
  • বাংলা শব্দের বানান ভুলের আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে একটি ধ্বনির একাধিক রূপ। যেমন : দুটো ‘ন’ ধ্বনি (ন, ণ), স-ধ্বনির তিনটি (শ, ষ, স) রূপ স্বভাবতই অনেকর মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং নিয়মগুলো ভালোভাবে না জানার কারণে তারা বানানে ভুল করে বসে।  

ণত্ব-বিধান

বাংলা শব্দের বানানে  দন্ত্য-ন পরিবর্তিত হয়ে কখন মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়, এই নিয়মের নামই হল ণত্ব বিধান।

১. সাধারণত ‘র’, ‘ষ’, ‘ক্ষ’ – এই তিন অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হবে। (‘র’ অর্থ ১.র ২.ঋ ৩.রেফ্‌ ৪.র-ফলা ৫.ঋ-কার)।

উদাহরণ: প্রাণ, কারণ, ধারণ, ঘৃণা, তৃণ, ষণ্ড, ভূষণ, ক্ষণ ইত্যাদি।

২. ‘র’ অথবা ‘ক্ষ’ এরপর যদি

ক-বর্গের ৫টি (ক খ গ ঘ ঙ)

প-বর্গের ৫টি (প ফ ব ভ ম) এবং য য় হ

এই মোট ১৩টি অক্ষরের যে-কোনো ১টি বা ২টি অক্ষর আসে, তবে তার পরেও মূর্ধন্য-ণ হবে।

উদাহরণ: পরায়ণ, গ্রহণ, কৃপণ, ভ্রাম্যমাণ ইত্যাদি।

৩. ট-বর্গের ট ঠ ড ঢ-এই চারটি বর্ণের পূর্বে যদি ‘ন্‌’ ধ্বনি থাকে এবং ঐ ‘ন্‌’ সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয়, তা হলে সর্বদা মূর্ধন্য-ণ হবে। যেমন: কণ্টক, ঘণ্টা, ঠাণ্ডা, দণ্ড, লণ্ঠন ইত্যাদি।

৪. ত-বর্গের ত থ দ ধ-এই চারটি বর্ণের পূর্বে যদি ‘ন্‌’ ধ্বনি থাকে এবং ঐ ‘ন্‌’ সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয়, তা হলে সর্বদা দন্ত্য-ন হবে। যেমন: অন্ত, ছন্দ, বন্দি, গন্ধ ইত্যাদি।

৫. এই ণত্ব-বিধান বিদেশী শব্দ বা বিদেশী নামের বানানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় । যেমন: গ্রিন (গ্রিণ নয়)।

৬. সমাসবদ্ধ দুই পদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকায় নিম্নের শব্দগুলোর ক্ষেত্রে ‘মূর্ধন্য-ণ’র পরিবর্তে ‘দন্ত্য-ন’ ব্যবহৃত হবে।

যেমন: ত্রিনয়ন, দুর্নীতি, সর্বনাম ইত্যাদি।

৭. খাঁটি বাংলা শব্দে ও অ-তৎসম শব্দে (অর্থাৎ তদ্ভব শব্দে) সর্বদা দন্ত্য-ন হবে। যেমন: ঝরনা, রানী, পুরান ইত্যাদি।

ষত্ব-বিধান

বাংলা শব্দের বানানে  দন্ত্য-স পরিবর্তিত হয়ে কখন মূর্ধন্য-ষ হয়ে যায়, এই নিয়মের নামই হল ষত্ব বিধান।

১.  অ আ এবং অ-কার ছাড়া অন্যান্য স্বরবর্ণের পরে বহু ক্ষেত্রে ষ হয়ে থাকে।

অর্থাৎ ই, ঈ উ ঊ এ ঐ ও ঔ এবং হ্রস্ব- ই,  দীর্ঘ-ঈ, হ্রস্ব-উ, দীর্ঘ-ঊ, এ-কার, ঐ-কার, ও-কার, ঔ-কার –এদের পরে ষ হয়:


ইষণ ইষু বিষয় ভবিষ্যৎ ঈষ ইষৎ ভীষণ জিগীষা উষ্ণ সুষম তুষার মঞ্জুষা উষর ঊষা ভূষণ দূষণ এষণ এষা দ্বেষ বিশেষ ঐষিক বৈষ্ণব ওষধি ওষুধ পোষণ কোষাধ্যক্ষ ঔষধ পৌষ কৌষেয়

২.  সন্ধির ক্ষেত্রে প্রথম পদে ‘হ্রস্ব-ই + বিসর্গ’ বা ‘হ্রস্ব-উ + বিসর্গ’ থাকলে এবং দ্বিতীয় পদের শুরুতে ক খ প ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গের জায়গায় সর্বদা মূর্ধন্য-ষ বসবে। যথা:

আবিঃ+কার = আবিষ্কার নিঃ+পত্র = নিষ্পত্র আয়ু + কাল = আয়ুষ্কাল পরিঃ+কার = পরিষ্কার নিঃ + প্রদীপ = নিষ্প্রদীপ দুঃ + কর = দুষ্কর নিঃ+ক্রিয় = নিষ্ক্রিয় নিঃ + ফল = নিষ্ফল চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ

৩.  রেফ্‌ বা ঋ-কারের পরে সর্বদা মূর্ধন্য-ষ হবে। যথা: কর্ষণ, বর্ষা, মহর্ষি, ঋষি, বৃষ, তৃষা, তৃষ্ণা।

৪.  ট ঠ-এই দুটি বর্ণের  পূর্বে সর্বদা মূর্ধন্য-ষ হবে। অর্থাৎ, যুক্তাক্ষরের রূপ হবে ষ্ট/ষ্ঠ। যথা: অনিষ্ট, ওষ্ঠ, নষ্ট, বলিষ্ঠ।

৫.  বাংলা ভাষায় দেশি-বিদেশী শব্দ মিলে ৫০টিরও বেশি উপসর্গ আছে। এ-সব উপসর্গের মধ্যে ই-কারন্ত (অর্থাৎ হ্রস্ব-ই দিয়ে শেষ হচ্ছে যেগুলো – অধি অভি প্রতি পরি ইত্যাদি) এবং উ-কারন্ত (যেমন – অনু সু ইত্যাদি) উপসর্গের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যথা:

অভিষেক (অভি+সেক) প্রতিষ্ঠান (প্রতি+স্থান) অনুষঙ্গ =(অনু+সঙ্গ) অনুষ্ঠান (অনু + স্থান) সুষম (সু+সম)

৬.  বিদেশী শব্দে কখনোই ‘মূর্ধন্য-ষ’ হবে না। যথা: মজলিস, স্যার, মেশিন, চশমা, সিলেবাস ইত্যাদি।

তৎসম শব্দের বানানের কিছু নিয়ম

১. যেসব তৎসম শব্দে ‘হ্রস্ব ই-কার’, ‘দীর্ঘ ঈ-কার’ বা ‘হ্রস্ব উ-কার’, ‘দীর্ঘ ঊ-কার’ উভয় শুদ্ধ, সেসব শব্দে শুধুমাত্র ‘হ্রস্ব ই-কার’ এবং’ হ্রস্ব উ-কার’ হবে । যেমন : কিংবদন্তি, খঞ্জনি, চিৎকার, চুল্লি, তরণি, ধমনি, নাড়ি, পঞ্জি, পদবি, পল্লি, ভঙ্গি, মঞ্জরি, মসি, যুবতি,রচনাবলি, লহরি, শ্রেণি, সরণি, সূচিপত্র,উর্ণা, ঊষা ।

২. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না । যেমন : অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ্ব, কর্ম্ম, কার্ত্তিক, কার্য্য, বার্দ্ধক্য, মূর্চ্ছা,সূর্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন,ঊর্ধ্ব, কর্ম, কার্তিক, কার্য, বার্ধক্য, মূৰ্ছা, সূর্য ইত্যাদি হবে।

৩. তৎসম শব্দ নারীবাচক হলে শেষে ‘দীর্ঘ ই-কার’ হবে।  যেমন: কল্যানী, সুন্দরী, মানবী, তরুণী।

৪. সন্ধির ক্ষেত্রে প্রথম পদে ‘ম্‌’ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে অন্তঃস্থিত  ‘ম্‌’-এর স্থানে  অনুস্বার (ং) হবে ।

যেমন : – অহম্ + কার = অহংকার। এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

সন্ধিবদ্ধ না হলে ঙ স্থানে (ং) হবে না।

যেমন : অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী ।

 ৫. শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকবে না ।

যেমন : ইতস্তত, কার্যত, ক্রমশ, পুনঃপুন, প্রথমত, প্রধানত, প্রয়াত, প্রায়শ, ফলত, বস্তুত, মূলত ।

এছাড়া নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে শব্দমধ্যস্থ বিসর্গ-বর্জিত রূপ গৃহীত হবে । যেমন : দুস্থ, নিস্তব্ধ, নিস্পৃহ, নিশ্বাস ।

এছাড়া নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে শব্দমধ্যস্থ বিসর্গ-বর্জিত রূপ গৃহীত হবে । যেমন : দুস্থ, নিস্তব্ধ, নিস্পৃহ, নিশ্বাস ।

. তৎসম শব্দের শেষে যদি ‘ৎ’ থাকে, তবে তা বহাল থাকবে। যেমন: বিদ্যুৎ, জগৎ, হঠাৎ।

শেষে ‘ৎ’ আছে এমন শব্দের সঙ্গে ‘এ’ বা ‘এর’ বিভক্তি যোগ করা হলে ‘ৎ’ লোপ পাবে, বদলে ‘ত’ বসবে।

যেমন: ভবিষ্যৎ+এ à ভবিষ্যতে, ভবিষ্যৎ+এর à ভবিষ্যতের।

অ-তৎসম শব্দ বানানের কিছু নিয়ম

 . সকল অ-তৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন (ি) ও (ু) ব্যবহৃত হবে।

যেমন: আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইমান, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়াল, গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি, জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, দিদি, নানি, নিচু, পশমি, পাখি, পাগলামি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইনি, বেশি, বোমাবাজি, ভারি(অত্যন্ত অর্থে),মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি, সোনারি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।

. পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে। যেমন :

ছেলেটি, বইটি, লোকটি।

. সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন:

এটা কী বই? কী আনন্দ ! কী আর বলব? কী করছ ? কী করে যাব? কী খেলে? কী জানি? কী দুরাশা! তোমার কী ! কী বুদ্ধি নিয়ে এসেছিলে! কী পড়ো? কী যে করি!কী বাংলা কী ইংরেজি উভয় ভাষায় তিনি পারদর্শী ।

.কীভাবে, কীরকম, কীরূপে প্রভৃতি শব্দেও ‘দীর্ঘ ঈ-কার’ হবে । যেসব প্রশ্নবাচক বাক্যের উত্তর হ্যাঁ বা না হবে, সেইসব বাক্যে ব্যবহৃত কি ‘হ্রস্ব ই-কার’ দিয়ে লেখা হবে । যেমন :

তুমি কি যাবে? সে কি এসেছিল?

. শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে । যেমন :

গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং ।

তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে । যেমন : বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের ।

বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে ।

. হস-চিহ্ন যথাসম্ভব বর্জন করা হবে ।

যেমন : কলকল, করলেন, কাত, চট, জজ, ঝরঝর, টক, টন, টাক, ডিশ, তছনছ, ফটফট, বললেন, শখ, হুক ।

তবে যদি অর্থবিভ্রান্তি বা ভুল উচ্চারণের আশঙ্কা থাকে তাহলে হস-চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে । যেমন : উহ, বাহ, যাহ।

. ঊর্ধ্বকমা যথাসম্ভব বর্জন করা হবে । যেমন: বলে (বলিয়া), হয়ে, দুজন, চাল (চাউল), আল (আইল) ।

হ্রস্ব-ই কার ও দীর্ঘ-ঈ কার  ব্যবহারের কিছু নিয়ম

১. বিশেষ্য শব্দের শেষ ‘দীর্ঘ-ঈ’ যোগ করলে বিশেষণ তৈরি হয়।

যেমন : উৎসাহ > উৎসাহী, ঋণ > ঋণী, লোভ > লোভী, ত্যাগ > ত্যাগী, গৃহ > গৃহী, ধন > ধনী, পাপ > পাপী ইত্যাদি।

২. কোনো শব্দের শেষে যদি ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার থাকে এবং তার পরে যদি ত্ব /তা/ণী/নী /সভা/পরিষদ/ভাব/ভাবে/তত্ত্ব /বিদ্যা/জগৎ/বাচক ইত্যাদি যুক্ত হয় তবে ঐ শব্দের শেষের ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার ‘হ্রস্ব-ই’ কার হয়ে যাবে।

যেমন : অধিকারী>অধিকারিত্ব, একাকী>একাকিত্ব, প্রাণী>প্রাণিজগৎ, মন্ত্রী>মন্ত্রিপরিষদ, অধিকারী>অধিকারিণী ইত্যাদি।

৩. স্ত্রীলিঙ্গ-বাচক শব্দের শেষে ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার হবে।  যেমন : গাভী, দাসী, রানী, মানবী, যুবতী, নেত্রী ইত্যাদি।

৪. সন্ধির একটি নিয়ম আছে: হ্রস্ব-ই’ কার + ই = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার, হ্রস্ব-ই’ কার + ঈ = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার, দীর্ঘ-ঈ’ কার + ই = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার, দীর্ঘ-ঈ’ কার + ঈ = ‘দীর্ঘ-ঈ’ কার; কোনো শব্দ যদি সন্ধি করার ফলে তৈরি হয়, তবে সে-সব ক্ষেত্রে ঐ নিয়মগুলো প্রয়োগ করলেই বানান নির্ভূল হবে। যেমন :

রবি+ইন্দ্র = রবীন্দ্র পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা ভর্তি+ইচ্ছু = ভর্তীচ্ছু বারি+ইন্দ্র = বারীন্দ্র অধি+ঈশ্বর =অধীশ্বর সুধী+ইন্দ্র =সুধীন্দ্র

শব্দের শেষে -ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে বানানের নিয়ম

শব্দের শেষে ‘-ইক’ প্রত্যয় যুক্ত হলে বানানে কিছু পরিবর্তন আসে।

১. শব্দের প্রথমে ‘অ-কার’ থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘আ-কার’ হবে।

যেমন : অঙ্গ>আঙ্গিক, পরলোক>পারলৌকিক, জগৎ>জাগতিক, গণিত>গাণিতিক, অভিধান>আভিধানিক ইত্যাদি।

২. শব্দের প্রথমে ‘ই-কার’; ‘ঈ-কার’ এবং ‘এ-কার’ থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘ঐ-কার’ হবে।

যেমন : ইচ্ছা>ঐচ্ছিক, পিচাশ>পৈশাচিক, নীতি>নৈতিক, এক>ঐকিক, দেহ>দৈহিক, হেমন্ত>হৈমন্তিক ইত্যাদি।

৩. শব্দের প্রথমে ‘উ-কার’; ‘ঊ-কার’ এবং ‘ও-কার’ থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘ঔ-কার’ হবে।

যেমন : উপন্যাস>ঔপন্যাসিক, মুখ>মৌখিক, ভূগোল>ভৌগোলিক, কোণ>কৌণিক, লোক>লৌকিক ইত্যাদি।

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম

বাংলা ভাষার স্বরবর্ণের প্রথম বর্ণই হচ্ছে ‘অ’। এটাকে আম­­রা বলে থাকি ‘স্বরে-অ’, আসলে এর নাম ‘অ’। এই ‘অ’ নিয়ে শুরু বাঙলা উচ্চারণের অন্তহীন সমস্যা। কারণ এ-বর্ণটি শব্দ বা পদের আদ্য-মধ্য বা অন্তে ব্যবহৃত হ’য়ে কখনো উচ্চারিত হয় ‘অ’ রূপে, কখনো ‘ও’-কার বা ‘অর্ধ-ও-কার’ রূপে।

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম

(একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি)

সাইফুজ্জামান খালেদ

উচ্চারণ কী?

উচ্চারণ হচ্ছে একটি বাচনিক প্রক্রিয়া। চলিত বাংলা কথ্য বাচনভঙ্গির বিভিন্ন বৈচিত্র্যের একটি সমন্বিত উচ্চারণ মানকে প্রমিত বাংলা উচ্চারণ বলা হয়।

উচ্চারণ রীতি কী?

শব্দের যথাযথ উচ্চারণের জন্য নিয়ম বা সূত্রের সমষ্টিকে উচ্চারণরীতি বলে।

৷৷ স্বরবর্ণ  ৷৷

বাংলা ভাষার স্বরবর্ণের প্রথম বর্ণই হচ্ছে ‘অ’। এটাকে আম­­রা বলে থাকি ‘স্বরে-অ’, আসলে এর নাম ‘অ’। এই ‘অ’ নিয়ে শুরু বাঙলা উচ্চারণের অন্তহীন সমস্যা।  কারণ এ-বর্ণটি শব্দ বা পদের  আদ্য-মধ্য বা অন্তে ব্যবহৃত হ’য়ে  কখনো উচ্চারিত হয় ‘অ’ রূপে, কখনো ‘ও’-কার বা ‘অর্ধ-ও-কার’  রূপে।

নিচে আদ্য-মধ্য ও অন্ত ‘অ’ –এর উচ্চারণের কিছু নিয়ম আলোচনা করা হল।

আদ্য

১. শব্দের শুরুতে যদি ‘অ’ থাকে [সেটা স্বাধীন (‘অ’) কিংবা ব্যঞ্জনে যুক্ত (ক্‌+অ=ক, ম্‌+অ=ম ইত্যাদি) উভয়ই হতে পারে] তারপর হ্রস্ব ই-কার, দীর্ঘ ঈ-কার,‌ হ্রস্ব উ-কার বা দীর্ঘ ঊ-কার থাকে তাহলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-কারের মতো হয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
অধিক ওধিক্‌ খচিত খোচিতো তরী তোরী
মধুর মোধুর্‌ মনুষ্য মোনুশ্‌শো বধূ বোধু

২. শব্দের আদ্য ‘অ’ এর পর ‘ক্ষ’ বা ‘জ্ঞ’ থাকলে তাহলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-কারের মতো হয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
রক্ষা রোক্‌খা লক্ষ লোক্‌খো যজ্ঞ জোগ্‌গোঁ

৩. শব্দের আদ্য ‘অ’ এর পর যদি ‘ঋ-কার’ যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকে তাহলে সে আদ্য ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-কারের মতো হয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
মসৃণ মোসৃন্‌ কর্তৃকারক কোর্‌তৃকারোক্‌ যকৃত যোকৃতো

৪. শব্দের আদ্য ‘অ’ এর পর য-ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে তাহলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-কারের মতো হয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
কন্যা কোন্‌না গদ্য গোদ্‌দো পদ্য পোদ্‌দো

৫. উপরে আমরা যে নিয়মগুলো আলোচনা করেছি তার একটি প্রধান ব্যতিক্রম আছে । যদি আদ্য-‘অ’ না-বোধক হয় তবে সে ‘অ’ এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকবে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
অবিরাম অবিরাম্‌ অবিনাশী অবিনাশি অসুখ অসুখ্‌
অশুভ অশুভো অকৃত্রিম অকৃত্‌ত্রিম্‌ অন্যায় অন্‌ন্যায়্‌

৬. সহিত-অর্থে বা সহার্থে ‘স’ (স্‌+অ=স) যদি শব্দের আদিতে থাকে তবে তার উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। অর্থাৎ আদ্য-‘স’-এর পরে হ্রস্ব ই-কার, দীর্ঘ ঈ-কার,‌ হ্রস্ব উ-কার বা দীর্ঘ ঊ-কার যায় থাকুক না কেনো সহার্থের ‘স’-এর উচ্চারণ ‘অ’-কারন্তই হবে ‘ও’-কারন্ত হবে না। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
সবিনয় শবিনয়্‌ সস্ত্রীক শস্‌ত্রিক্‌ সজ্ঞান শগ্‌গ্যাঁন্‌

মধ্য

১. শব্দমধ্যস্থিত ‘অ’ (সর্বত্র ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত), আদ্য-‘অ’-এর মতোই হ্রস্ব ই-কার, দীর্ঘ ঈ-কার,‌ হ্রস্ব উ-কার, দীর্ঘ ঊ-কার ঋ-কার, ক্ষ, জ্ঞ বা য-ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের আগে থাকলে সে ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-কারের মতো হয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
পরিহরি পোরিহোরি ধরণী ধরোনি রজনী রজোনি
সমভূমি শমোভূমি বিশেষজ্ঞ বিশেশোগ্গোঁ আত্মরক্ষা আত্তোঁরোক্খা
বিপক্ষ বিপোক্খো রাজকন্যা রাজকোন্না অরণ্য অরোন্নো

২. তিন বা তার অধিক বর্ণে গঠিত শব্দের মধ্য-‘অ’-এর আগে যদি অ, আ, এ এবং ও-কার থাকে তবে সে-ক্ষেত্রে সে ‘অ’-এর উচ্চারণে ‘ও’-কার প্রবণতা থাকে সমধিক। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
বচন বচোন্ রতন রতোন্ কানন কানোন্
রাবণ রাবোন্ কেতন কেতোন শোভন শোভোন্
শোষণ শোষোণ্ কোমল কোমোল্ গোপন গোপোন্

তবে এ সূত্রে আদ্য-‘অ’ যদি না-বোধক হয় কিংবা সহার্থের ‘স’ (স্‌+অ=স) হয়, তবে কিন্তু সে-‘অ’ বা ‘স’-এর পরের মধ্য –‘অ’ প্রমিত উচ্চারণে অবিকৃত উচ্চারিত হওয়ায় বাঞ্ছনীয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
অচল অচল্ অমর অমর্ সচল শচল্
সদল সদল্ সরস শরশ্ অশক্ত অশক্তো

অন্ত্য –‘

শব্দ বা পদ-শেষের ‘অ’ বাংলা ভাষায় প্রায়শ উচ্চারিত হয় না (যেমন : নাক্‌, কান্‌, জলোধর্‌, ধান্‌ ইত্যাদি), অর্থাৎ অন্তিম ‘অ’ হসন্তরূপে উচ্চারিত হয় সাধারণত। কিন্তু সর্বত্র এ-নিয়ম প্রযোজ্য নয়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই অন্ত্য-‘অ’ কেবল রক্ষিত নয়, স্পষ্ট ও-কারন্ত উচ্চারিত হয়। এভাবে আমরা অন্ত্য-‘অ’-এর ও-কারন্ত উচ্চারণের কয়েকটি নিয়ম আলোচনা করবো।

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
পরিহরি পোরিহোরি ধরণী ধরোনি রজনী রজোনি
সমভূমি শমোভূমি বিশেষজ্ঞ বিশেশোগ্গোঁ আত্মরক্ষা আত্তোঁরোক্খা
বিপক্ষ বিপোক্খো রাজকন্যা রাজকোন্না অরণ্য অরোন্নো

১. শব্দ-শেষের সংযুক্তবর্ণের ‘অ’ সাধারণত রক্ষিত হয় এবং সংযুক্তবর্ণের প্রথমটি হসন্ত ও পরেরটি ‘ও-কারন্ত’ উচ্চারণ হয়ে থাকে। যেমন:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
পদ্ম পদ্দোঁ গন্ধ গন্ধো নষ্ট নশ্টো
যুদ্ধ জোদ্ধো বিভক্ত বিভক্তো বিপন্ন বিপন্নো

২. ‘ত’ (ক্ত) এবং ‘ইত’ প্রত্যয়যোগে সাধিত বা গঠিত বিশেষণ বা ক্রিয়াপদের অন্ত্য-‘অ’ উচ্চারণে অনেকটা ‘ও-কারন্ত” হ’য়ে থাকে। যেমন:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
মণ্ডিত মোন্ডিতো বিকশিত বিকোশিতো ব্যথিত বেথিতো

৩. ‘তর’ এবং ‘তম’ প্রত্যয়যোগে গঠিত বিশেষণ পদের অন্তিম-‘অ’ সাধারণত ‘ও-কারন্ত” উচ্চারিত হয় । যেমন:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
উচ্চতর উচ্চোতরো শেষতম শেষ্তমো যোগ্যতম জোগ্গোতমো

৪. শব্দ শেষের ‘অ’-এর আগে যদি ‘ং(অনুস্বার)’ বা ‘ঙ’, ঋ-কার, র-ফলা, ঐ-কার বা ঔ-কার থাকে, তবে অন্তিম-‘অ’ সাধারণত ‘ও-কারন্ত” উচ্চারিত হয় । যেমন:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
হংস হঙশো শঙ্খ শঙখো অমৃত অমৃতো
দৈব দোইবো যৌথ জোউথো গ্রহ গ্রোহো

৫. ইব, -ইল, -ইতেছ, ইয়াছ, ইতেছিল, ইয়াছিল, ইত্যাদি প্রত্যয়যোগে গঠিত ক্রিয়াপদের অন্ত্য-‘অ’, সাধারণত বিলুপ্ত হয় না এবং উচ্চারণে ওই ‘অ’  প্রায়শ ও-কারন্ত হয়ে থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
প্রকাশিল প্রোকাশিলো আসিব আশিবো বুঝেছ বুঝেছো

৬. বাংলা সংখ্যাবাচক শব্দের ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত শব্দের (এগুলোও বিশেষণ-জ্ঞাপক) অন্ত্য-‘অ’, সাধারণত বিলুপ্ত হয় না এবং উচ্চারণে ওই ‘অ’ ও-কারন্ত হয়ে থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
এগার এ্যাগারো তের ত্যারো পনের পনেরো

৷৷ যুক্তব্যঞ্জনবর্ণ বা ফলা ৷৷

বাংলা ভাষায় বেশকিছু যুক্তবর্ণ বা ‘ফলা’ ব্যবহৃত হয়। এ-গুলোর বানান যেমন বিচিত্র, তেমনি উচ্চারণও বৈচিত্র্যময়। ছাত্র-ছাত্রীদের এ-সব ‘ফলা’র উচ্চারণ নিয়ে প্রায়শ বিভ্রান্ত হতে হয়। কারণ পদের প্রথমে ব্যবহৃত ‘ফলা’  বা যুক্তবর্ণের উচ্চারণ এক রকম , পদ-মধ্যে বা অন্তে হয় অন্যরকম। নিচে কিছু ‘ফলা’-র উচ্চারণ সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

-ফলা

১. পদের আদ্য বা প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ব’-ফলা সংযুক্ত হলে সাধারণত সে-‘ব’ ফলার কোনো উচ্চারণ হয় না, তবে ব-ফলাযুক্ত বর্ণটির উচ্চারণে স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য ঝোঁক বা শ্বাসঘাত পড়ে থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
স্বপ্ন শপ্নো ত্বরা তরা স্বস্তি শোস্তি

২. বাংলা উচ্চারণের ধারা-অনুসারে পদের মধ্যে কিংবা শেষে  ‘ব’-ফলা সংযুক্ত হলে সাধারণত সংযুক্তের বর্ণের উচ্চারণ-দ্বিত্ব ঘটে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
ভূস্বামী ভুশ্শামি ভাস্বর ভাশ্শর বিশ্ব বিশ্শো

৩. উৎ (উদ্‌) উপসর্গযোগে গঠিত শব্দের ‘ব-ফলা’র উচ্চারণ সাধারণত অবিকৃত থাকে। অর্থাৎ ‘উদ’-এর ‘দ’-এর দ্বিত্ব না হয়ে বাঙালা উচ্চারণে ‘ব’-এর উচ্চারণ হয়ে থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
উদ্বেল উদ্বেল্ উদ্বিগ্ন উদ্বিগ্নো উদ্বেগ উদ্বেগ

৪. বাংলা শব্দে ‘ক্‌’ থেকে সন্ধির সূত্রে সাধারণত ‘গ’ আসে এবং সেই আগত ‘গ’-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে, সে-ক্ষেত্রে ‘গ’-এর উচ্চারণ (শব্দমধ্যে কিংবা অন্তে) দু’বার হয় না, ‘ব’-ই  অবিকৃত অবস্থায় উচ্চারিত হয়ে থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
দিগ্বধূ দিগ্বোধূ দিগ্বিজয়ী দিগ্বিজোয়ি দিগ্বসনা দিগ্বশোনা

৫. পদ-মধ্যে কিংবা অন্তে অবস্থিত ‘ম’-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে , সে-ক্ষেত্রে ‘ব’ অবিকৃত অবস্থায় উচ্চারিত হয়ে। অর্থাৎ এ-ক্ষেত্রে ‘ম’-এর দ্বিত্ব-উচ্চারণ না হয়ে ‘ম’-এর পরে ‘ব’-এর উচ্চারণ হয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
অম্বর অম্বর সম্বল শম্বোল্ বারম্বর বারোম্বার

৬. বাংলা ভাষায় যদি যুক্তব্যাঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ব-ফলা (বা যে কোনো ফলা) সংযুক্ত হয় তবে সে-ক্ষত্রে উচ্চারণে ব-ফলার কোনো ভূমিকা থাকে না; অর্থাৎ কোনো বর্ণকে দ্বিত্বও করে না বা ফলাটিও উচ্চারিত হয় না। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
আমসত্ত্ব আম্শত্তো উজ্জ্বল উজ্জোল পার্শ্ববর্তী পার্শোবোর্তি

-ফলা

১. পদের আদ্য বা প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ম’-ফলা সংযুক্ত হলে সাধারণত সে-‘ম’ ফলার কোনো উচ্চারণ হয় না; তবে প্রমিত-উচ্চারণে ম-ফলাযুক্ত বর্ণটি অতি-সামান্য নাসিক্য প্রভাবিত হ’য়ে থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
স্মরণ শঁরোন্ শ্মুশ্রুধর শোঁস্স্রুধর্, শ্মশান শঁশান্

২. পদের মধ্যে কিংবা শেষে  ‘ম’-ফলা সংযুক্তবর্ণ সাধারণত দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়ে থাকে। তবে এই ‘ম’ যেহেতু বর্গের পঞ্চম বর্ণ বা অনুনাসিক ধ্বনি সেজন্য দ্বিত্ব উচ্চারিত শেষ বর্ণটি প্রমিত-উচ্চারণে সামান্য নাসিক্য প্রভাবিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
বিস্ময় বিশ্শঁয়্ আত্মা আত্তাঁ অকস্মাৎ অকশ্শাঁত্

৩. বাংলা ভাষায় পদের মধ্যে কিংবা শেষে সর্বত্র কিন্তু ‘ম-ফলা’-যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না। বিশেষ করে গ, ঙ, ট, ণ, ন এবং ল-এর সঙ্গে ম-ফলা সংযুক্ত হলে ‘ম-ফলা’র উচ্চারণে ‘ম’ অবিকৃত থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
যুগ্ম জুগ্মো উন্মুক্ত উন্মোক্তো বল্মীক বল্মিক্

৪. যুক্ত-ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত ‘ম-ফলা’র কোন উচ্চারণ হয় না। তবে এ-ক্ষেত্রেও ব্যঞ্জনবর্ণের শেষ বর্ণটিকে প্রমিত উচ্চারণে সামান্য অনুনাসিক করে করে তোলে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
লক্ষ্মণ লক্খোঁন্ যক্ষ্মা জক্খোঁ লক্ষ্মী লোক্খিঁ

৫. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ‘ম-ফলা’যুক্ত কতিপয় সংষ্কৃত শব্দ আছে (কৃতঋণ শব্দ), যেগুলোর বানান এবং উচ্চারণে  সংষ্কৃত রীতি অনুসৃত। অর্থাৎ বাংলা উচ্চারণবিধি অনুসারে উচ্চারিত না হয়ে সংষ্কৃত উচ্চারণেই প্রচলিত। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
উষ্মা উশ্মা চক্ষুষ্মান চক্খুশ্মান কুষ্মাণ্ড কুশ্মান্ডো

-ফলা

১. পদের আদ্য বা প্রথম ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ল’-ফলা সংযুক্ত হ’লে সাধারণত সে-বর্ণের উচ্চারণ-দ্বিত্ব হয় না; তবে বর্ণটির সঙ্গে সংযুক্তাবস্থায় ‘ল-ফলা’র উচ্চারণ হ’য়ে থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
গ্লানি গ্লানি ক্লান্ত ক্লান্তো ম্লান ম্লান্

২. পদের মধ্যে কিংবা অন্ত্য-বর্ণের সঙ্গে ‘ল-ফলা’ সংযুক্ত হ’লে সে-বর্ণের উচ্চারণ-দ্বিত্ব হয় এবং ল-এর উচ্চারণও অবিকৃত থাকে। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
মহাক্লান্ত মহাক্ক্লান্তো অশ্লীল অস্স্লিল অম্ল অম্ম্লো

৷৷ -সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ  ৷৷

বাংলা ভাষায় ‘হ’ বর্ণটি যখন স্বাধীন বা স্বতন্ত্র-বর্ণরূপে পদে ব্যবহৃত হয়, তখন উচ্চারণে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু এ-বর্ণটি যে-মুহূর্তে ঋ-কার, ণ, ন, ম, য-ফলা, র-ফলা, ব, ল ইত্যাদির সাথে যুক্ত হ’য়ে পদে সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের মতো  ব্যবহৃত হয়, তখন উচ্চারণে নানাবিধ সমস্যা অনিবার্য হ’য়ে ওঠে। ফলে আমরা ‘হ’-যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ-বৈশিষ্ট্য উদাহরণ সহযোগে আলোচনা করবো।   

প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন, ‘হ’-যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণকে, ‘হ’ প্রায়শ মহাপ্রাণতা দান করে থাকে। যেখানে ব্যঞ্জনবর্ণটির নিজস্ব মহাপ্রাণবর্ণ নেই, সেখানে ‘হ’ সেই-বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হ’য়ে উচ্চারণে মহাপ্রাণ-প্রবণতা এনে দেয়। আবার বহুক্ষেত্রে (পদের মধ্যে বা অন্তে) ‘হ’ উচ্চারণ স্থান পরিবর্তন ক’রে, যুক্তবর্ণের দ্বিত্ব-উচ্চারণ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টিকে মহাপ্রাণবোধক করে তোলে। স্বতন্ত্র দৃষ্টান্তের সাহায্যে প্রাগুক্ত প্রস্তাবনা স্পষ্টতর হতে পারে।

-এর সঙ্গে ণ বা ন যুক্ত হলে

হ-এর সঙ্গে ‘ণ’ কিংবা ‘ন’-যুক্ত হলে সে উচ্চারণ হয় তা কোনো মতেই ‘হ’ এবং ‘ন’-এর যুক্তধ্বনি নয়। এর উচারণ হয় অনেকটা ‘ন্‌হ’ এর মতো।  যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
চিহ্ণ চিন্নোহ্ বহ্ণি বন্নিহ্ বহ্ণ্যুৎসব বোন্নুহ্ত্শব

-এর সঙ্গে যুক্ত হলে

হ এবং ম-এর যুক্তরূপ ‘হ্ম’ চিহ্ণটিকেও ‘ম’-এর মহাপ্রাণরূপ বলা যায়। বাংলা ভাষায়’হ্ম’-এর ব্যবহার মূলত কতিপয় তৎসম (সংষ্কৃত) শব্দের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।  নিচের কিছু দৃষ্টান্ত থেকে এর উচ্চারিত রূপ তুলে ধরতে চেষ্টা করব। যথা: ­­

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
ব্রহ্মাণ্ড ব্রোম্মাহ্ন্ডো ব্রহ্মা ব্রোম্মাহ্ ব্রহ্মদেশ ব্রোম্মোহ্‌দেশ্

এখানে হ্ম বর্ণে ‘হ’ যথাস্থানে উচ্চারিত না হয়ে অল্পপ্রাণ ‘ম’-কে দ্বিত্ব এবং মহাপ্রাণ করে তুলেছে। (শেষ ‘ম’-এর সংঙ্গে অর্ধ বা সিকি পরিমাণ ‘হ’ যুক্ত হয়ে।)

-এর সঙ্গে য-ফলা যুক্ত হলে

হ–এর সঙ্গে ‘য-ফলা’ যুক্ত হ’লে ‘হ’-এর নিজস্ব কোনো উচ্চারণই থাকে না; তবে ‘য’-এর (উচ্চারিত রূপ বাংলায় সর্বত্র ‘জ’)  দ্বিত্ব-উচ্চারণ হ’য়ে থাকে। প্রথমটি ‘জ’ এবং দ্বিতীয়টি ‘ঝ’ (যেহেতু ‘হ’নিজে উচ্চারণে বিলুপ্ত হ’লেও সংযুক্ত বর্ণটির দ্বিত্ব-উচ্চারণে মহাপ্রাণতা দিয়ে যায়) এর মতো উচ্চারিত হয়। দৃষ্টান্তের সাহায্যে বিষয়টি স্পষ্টতর হতে পারে।


শব্দ
উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
বাহ্য বাজ্ঝো উহ্য উজ্ঝো দাহ্য দাজ্ঝো

হ-এর সঙ্গে ঋ-কার এবং র-ফলা যুক্ত হলে

‘ন’ এবং ‘ম’-এর মতো ‘হৃ’ বা ‘হ্র’ মূলত ‘র’-এরই মহাপ্রাণ ধ্বনিরূপ। এর উচ্চারণ খুবই জটিল, এর উচ্চারণ-বিভ্রান্তি আমদের শিক্ষিত-সম্প্রদায়কেও বিপর্যস্ত করে তোলে। দৃষ্টান্তের সাহায্যে বিষয়টি স্পষ্টতর হতে পারে।

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
হৃদয় রিহ্দয় হৃৎপিণ্ড রিহ্ত্পিন্ডো অপহৃত অপোরিহ্তো

 ‘হ’-এর সঙ্গে ‘ল’ যুক্ত হলে

‘হ’ এবং ‘ল’-এর যুক্তরূপ ‘হ্ল’ চিহ্ণটিকেও ‘ল’-এর মহাপ্রাণরূপ বলা যায়। এখানেও ‘ল’-এর দ্বিত্ব-উচ্চারণ হ’য়ে থাকে। প্রথম ‘ল’-টি অল্পপ্রাণ, দ্বিতীয়টি মহাপ্রাণ (শেষ ‘ল’-এর সঙ্গে অর্ধ বা সিকি পরিমাণ ‘হ’ যুক্ত হয়।)।  যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
আহ্লাদ আল্লাহ্দ্ প্রহ্লাদ প্রোল্লাহ্দ্ হ্লাদিনী লাহ্দিনি

-এর সঙ্গে যুক্ত হলে

‘হ’-এর সঙ্গে যে ‘ব’ যুক্ত হয়, সংষ্কৃতভাষায় সে-‘ব’ অন্তস্থ ‘ব’ হলেও বাংলা ভাষায় উচ্চারণে তা বর্গীয় ‘ব’-এরই অনুরূপ। আবার তা বিশুদ্ধ ‘ব’-এর মতোও উচ্চারিত হয় না। ফলে ‘হ্ব’-এর উচ্চারণ পদ্ধতিতে কিছুটা বৈচিত্র্য  দেখা যায়। এখানেও ‘হ’-এর উচ্চারণ বিলুপ্ত হয়ে ‘ব’-এর দ্বিত্ব-উচ্চারণ হ’য়ে থাকে। এখানে প্রথম ‘ব’-টির উচ্চারণ অনেকটা ‘ও’-এর মতো হয়ে যায় এবং আগের মতোই দ্বিতীয় ‘ব’-টি উচ্চারণের সময়ে মহাপ্রাণরূপ ‘ভ’-এর মতো হয়ে যায়। আবার যদি ‘হ্ব’-এর পূর্বের বর্ণেই যদি হ্রস্ব ই-কার থাকে তাহলে প্রথম ‘ব’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো না হয়ে ‘উ’-কারের মতো হয়। যথা:

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
জিহ্বা জিউ্ভা আহ্বান আও্ভান্ গহ্বর গও্ভর্

সারাদেশের টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যালোচনা করে নির্বাচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দের উচ্চারণ

শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ শব্দ উচ্চারণ
শাশ্বত শাশ্শোতো আত্মীয় আত্‌তিঁয়ো মসৃন মোসৃন্‌
রক্ষা রোক্‌খা অভিধান ওভিধান্‌ ক্ষণ খন্‌
মৌন মৌনো সন্দিগ্ধ শোন্‌দিগ্‌ধো আহ্লাদ আল্‌লাহ্‌দ্‌
নিমজ্জন নিমোজ্জোন্ অদক্ষ অদোক্‌খো যুগসন্ধি জুগোশোন্‌ধি
মহারষ্ট্রীয় মহারাশ্ট্রিয়ো বৈজ্ঞানিক বোইগ্‌গাঁনিক্‌ খবর খবোর্‌
উচ্ছৃঙ্খল উচ্ছৃঙ্খোল্ ঐহিক ওইহিক্‌ দায়িত্ব দায়িত্‌তো
উদ্বিগ্ন উদ্বিগ্নো যুগ্ম জুগ্‌মো একতা একোতা
সম্মান শম্মান্ দুঃসহ দুশ্‌শহো হৃদয় রিহ্দয়
প্রশ্ন প্রোস্নো উদ্বাস্তু উদ্‌বাস্‌তু হৃৎপিণ্ড রিহ্ত্পিন্ডো
বিহ্বল বিউ্বল্ বিদ্বান বিদ্‌দান্‌ অরুণ ওরুন্‌
কক্ষ কোক্খো আত্মা আত্‌তাঁ তটিনী তোটিনি
সায়াহ্ণ শায়ান্নোহ্ বিজ্ঞ বিগ্‌গোঁ অতঃপর অতোপ্‌পর
অভ্যাগত ওব্ভাগতো জিহ্বা জিউ্‌বা অদ্য ওদ্‌দো
দৈবজ্ঞ দোই্বোগ্গোঁ নদী নোদি উচ্চারণ উচ্‌চারোন্‌
আহ্বান আও্ভান্ ভ্রমন ভ্রোমোন্‌ অভিজাত ওভিজাত্‌
সম্পৃক্ত শম্পৃক্তো একা অ্যাকা ক্ষত খতো
অধ্যাপক ওদ্ধাপোক্ লক্ষণ লোক্‌খোঁন্‌ হীনতা হিনোতা
গ্রীষ্ম গ্রিশ্শোঁ স্মরণ শঁরোন্‌ তব তবো
অদম্য অদোম্‌মো বাহ্য বাজ্‌ঝো শ্মশ্রু শোঁস্‌রু
গহ্বর গও্‌ভর্‌ কেমন ক্যামোন্‌ বহ্ণি বন্নিহ্
হৃষ্ট রিহ্‌শ্‌টো লাঞ্ছনা লান্‌ছোনা চিহ্ণ চিন্নোহ্
পদ্ম পদ্‌দোঁ অভিনেতা ওভিনেতা দাহ্য দাজ্ঝো
Design a site like this with WordPress.com
Get started